বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৩১ অপরাহ্ন

ইন্দুরকানীতে জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমানের মনোনয়ন পত্র বাতিল; সমর্থণকারীকে অপহরণের অভিযোগ; দুই প্রার্থীর সমার্থকদের মধ্যে হাতাহাতি

ইন্দুরকানী  বার্তা ডেস্ক:
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় আগামী ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে অনুষ্ঠেয় ৩ নং বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান মুন্সীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছে উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রার্থীর মনোনয়ন ফরমে সমার্থনকারী এনায়েত হোসেন সিকদারের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়। শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকালে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছায়ের সময় ঐ প্রার্থীর সমার্থণকারীর স্বাক্ষরে গড়মিলের বিষয়টি ধরা পড়ায় তার মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা এএসএম রোকনুজ্জামান খান।
এদিকে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইর সময় পুলিশের উপস্থিতিতে আ.লীগ মনোনীত এবং সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান মুন্সীর এক সমর্থণকারীকে আ.লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির হোসেনের কর্মিদের বিরুদ্ধে অপহরনের অভিযোগ আনা হয়।
শুক্রবার বিকেলে যাচাই বাছাইকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী ও সমর্থকরা ভীড় করে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ ও জেপি সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও সতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান মুন্সির পক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মি জড়ো হন সেখানে। জামায়াত নেতার মনোনয়ন পত্র বাতিল হওয়ার বিষয়টি শুক্রবার এ উপজেলায় টক অফ দ্যা টাউনে পরিনত হয়।
এর আগে জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমানের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার আগে তার চালান ফরম ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবে নানা বাধা বিপত্তি থাকলেও তিনি কৌশলে তার মনোনয়ন পত্র জমা দেন। শুক্রবার বিকালে মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি এবং জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের বেশকিছু নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তার অনুসারী লোকজন উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকালে ওই ইউনিয়নের প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমানের প্রার্থীতার মনোনয়ন ফর্মের সমার্থণকারী মোঃ এনায়েত হোসেন শিকদার (৫২) উপজেলার মাঠে পৌছলে প্রতিপক্ষের আ’লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী কবির হোসেনের সমার্থকরা তাকে অপহরন করে মোটর সাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান উপজেলা নির্বাচন অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অপহৃত এনায়েত হোসেন শিকদার উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের সাঈদখালী গ্রামের মোশারেফ শিকদারের ছেলে। তবে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অপহরণের শিকার এনায়েত হোসেন উদ্ধার হয়েছেন বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, মনোনয়ন যাচাই বাছাই চলাকালীন সময়ে আমরা উপজেলা পরিষদের সামনে আসলে আমাদেরকে আ’লীগ প্রার্থী কবির হোসেন বয়াতী ও তার ছেলে নবীন বয়াতী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহীন হাওলাদার সহ আরো বেশ কয়েক জন আমাদের উপর হামলা করে। এসময় আমার সমর্থণকারীকে পুলিশের সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমি এব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করব। তিনি বলেন, এরা দলীয় ক্ষমতার বলে প্রভাব বিস্তার করে একতরফা নির্বাচন করতে চায়। বিএনপি-জামায়াতের ভোট ব্যাংক খ্যাত এ ইউনিয়নটিতে বিজয়ী হওয়ার লক্ষে তিনি তার প্রার্থীতার জন্য মনোনয়ন প্রত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে মনোনয়ন পত্র বাতিলের বিষয়ে তিনি আপিল করবেন বলে প্রতিবেদককে জানান।
নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির হোসেন বয়াতী উক্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই হবে বিধায় বিকালে আমি নির্বাচন অফিসে অবস্থান করি। কে কি ভাবে অপহরণ হয়েছে তা আমি জানি না। এখানে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। উস্কানী মুলক কথাবার্তা বলায় দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে। ঐ প্রার্থী এধরনের যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন।

উপজেলা আ.লীগের একাধিক নেতা জানান, হাবিবুর রহমান মুন্সী বর্তমানে উপজেলা জামায়াতের আমীর। তিনি বালিপাড়ার যুবলীগ নেতা স্বপনশীল হত্যা মামলা সহ ২০১৩ সালে সংঘটিত একাধিক নাশকতা মামলার আসামী। নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে তিনি কৌশল করে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার এএসএম রোকনুজ্জামান খান জানান, মোট ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমানের মনোনয়ন ফরমে সমার্থনকারীর স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। বাকি ৫ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষাণা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থণকারীকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ পাই। এ ঘটনায় আইনী ব্যবস্থা নিতে ওই লিখিত অভিযোগটি থানায় পাঠানো হয়।

ইন্দুরকানী থানার ওসি মো: হুমায়ুন কবির জানান, দুই প্রার্থীর সমার্থকদের মধ্যে কিছুটা হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এছাড়া এনায়েত নামে এক ব্যক্তির অপহরনের ঘটনার ব্যাপারে আমি কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে চৌকিদারহাট নামক স্থানে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দোকানে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ওখান থেকে তাকে নিয়ে আসা হয়। তাকে কারো কোন জিম্মায় পাওয়া যায়নি। ঐ ব্যক্তিকে স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে তিনি প্রতিবদেককে জানান।

প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
Design By MrHostBD
বাংলা English