শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২০ অপরাহ্ন

সোনারগাঁওয়ে ৪০ গ্রামের মানুষের স্বপ্ন হরিহরদী সেতু

0 Shares

একটি সেতুর অভাবে উপজেলা সদর ও রাজধানীসহ সর্বত্র আসা-যাওয়া করতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ৪০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যুগের পর যুগ ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বাড়ি থেকে বের হয়েই জরাজীর্ণ মাটির রাস্তা, মাইলের পর মাইল জমির আইল ধরে হেঁটে চলা ও বিস্তীর্ণ কাঁদা মাটির উপর দিয়ে পথপাড়ি দেয়া ছিল ওই এলাকার মানুষের নিত্যদিনের ঘটনা।

হাঁটার যতটা না কষ্টের ছিল, তার চেয়েও বেশি কষ্টের ছিল ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপারে চরম দুর্ভোগ। বছর জুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপারে জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো ও নৌকাই ছিল ওই এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা।

কখনও কখনও অনেকের ভাগ্যে নৌকা না মিললেই নেমে আসতো চরম হতাশা আর ভোগান্তি। বর্ষা মৌসুমে জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো ভেঙে কতজন যে এ পর্যন্ত আহত হয়েছের তার কোন সঠিক হিসেব নিকেশ কারো কাছে না থাকলেও খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্তাব্যক্তি যে ওই এলাকায় চলাচল করতে গিয়ে বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ে আহত হয়েছেন সে ঘটনা অনেকেরই জানা রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিমত, ৪০ গ্রামের মানুষের আজীবনের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদে সেতু নির্মাণ ও যানবাহন চলাচলে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করার দাবিতে এলাকাবাসী বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোন ফল পায়নি।

অবশেষে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকার হস্তক্ষেপে এবার নির্মিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদে ওপর সেই বহু কাঙ্খিত হরিহরদী সেতু।

এ সেতু নির্মাণের পর আনন্দের জোয়ারে ভাসছে সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর, চরতালিমাবাদ, রাজাপুর ও সনমান্দী ইউনিয়নের দড়িকান্দি, হরিহরদী, টেমদী, বিজয়নগর, আলমদী, দক্ষিণপাড়া, মুসুরদী, জোয়ারদী, আটিবাড়ি, খৈতেরগাঁও, ছনকান্দা, কুমারচর, দড়িকান্দী, লেদামদী, সনমান্দী, ফতেপুর, ফতেপুর দড়িকান্দী, গাঙ্গুলকান্দী ও নোয়াকান্দীসহ ৪০ গ্রামের লোকজন।
এলাকাবাসী এখন শুধু পহর গুণছেন, কখন উদ্বোধন হবে তাদের স্বপ্নের সেই হরিহরদী সেতু।

জোয়ারদী গ্রামের আজিজুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে হরিহরদী সেতু নির্মাণ হওয়ায় আনন্দের জোয়ারে ভাসছে পুরো এলাকা। সেতুটি উদ্বোধন ও চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে এলাকাবাসীর শতশত বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, আমি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মুছারচর এলাকায় সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপারে জনসাধারণের দুর্ভোগ স্বচক্ষে দেখতে ওই এলাকা পরিদর্শনে যাই।

এসময় আমি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো ভেঙে পানিতে পড়ে আহত হই। এতে আমার উপলব্ধি হয় সাধারণ মানুষের চলাচলে কতোটা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

সেতুটি নির্মাণে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টির কারণে সোনারগাঁয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে হরিহরদী সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে।

সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, শিগগিরই সেতুটি উদ্বোধন করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
Design By MrHostBD
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap