বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
চামড়ার কদর নেই এবারও

চামড়ার কদর নেই এবারও

0 Shares

গত দুই কোরবানির ঈদে চামড়া কিনে বড় ধরনের লোকসান গুনেছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। এবার তাই দেখেশুনে চামড়া কেনার কথা ভাবছেন তারা।
এদিকে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই কোরবানির গরু জবাই শুরু হবে। অথচ পাইকার, আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে চামড়া কেনার ব্যাপারে কোনও নির্দেশনা পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সরকারের পক্ষ থেকে কাঁচা চামড়া রফতানি করার সিদ্ধান্তের পরও চামড়া কেনার ব্যপারে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের কোনও আগ্রহ জন্মেনি।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের মতোই এবারও চামড়ার কদর নেই। এ কারণে পাড়া-মহল্লা থেকে খুবই অল্প দামে চামড়া সংগ্রহ করবেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে রাজধানীর গোপীবাগ এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী লিটন সরকার বলেন, ‘পরপর গত দুইবার চামড়া কিনে ঠকেছি।’ এ কারণে এবার সবচেয়ে ভালো ও বড় মাপের চামড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় কিনবেন। মাঝারি সাইজের চামড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, আর ছোট গরুর চামড়ার দাম পড়বে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বলে জানান তিনি।

শুধু রাজধানীই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও কম দামে এবার কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন। এ প্রসঙ্গে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুড়া গ্রামের আশরাফুল আলম জানান, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় চামড়া কিনবেন। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে এক সপ্তাহ আগে থেকে চামড়া কেনার জন্য বলা হতো। মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও সেইভাবে টাকা জোগার করে রাখতো। কিন্তু এবার ঈদ চলে এলো অথচ পাইকার, আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে চামড়া কেনার ব্যাপারে কোনও নির্দেশনা নেই।’ তিনি বলেন, ‘গত বছর চামড়া কিনে দাম পাইনি। এবার যাতে চামড়া কিনে বিপদে পড়তে না হয়, সে জন্য গড়ে আড়াইশ’ টাকায় চামড়া কিনবো।’

এদিকে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া কিনলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিতে পড়বেন না।বরং ঝুঁকিতে থাকবেন ট্যানারি মালিকরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাশে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যবসায় লাভ লোকসান থাকে। এবার হয়তো মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসান করবে না। কিন্তু ঝুঁকিতে থাকবেন ট্যানারি মালিকরা।’ কী কারণে ঝুঁকিতে থাকবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষ ঘরের মধ্যে বন্দি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। অধিকাংশ মানুষ এখন অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান— এই তিনটি নিয়ে ভাবছে। জুতা বা চামড়ার পণ্য ব্যবহার করার মতো পরিস্থিতিতে কেউ নেই। পৃথিবীর নামি-দামি শোরুমগুলো বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করবো। কারণ, এ সময়ের সংগৃহীত চামড়া দিয়েই আমাদের সারাবছর কাজ করতে হয়। ফ্যাক্টরি চালু রাখতে হয়। শ্রমিকদের বেতন দিতে হয়।’





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
Design By MrHostBD
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap