শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

ইন্দুরকানীতে একটি মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনায় তোলপাড়; লাখ টাকায় রফাদফা

ইন্দুরকানীতে একটি মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনায় তোলপাড়; লাখ টাকায় রফাদফা

0 Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন্দুরকানীর বালিপাড়ায় চান সিরাজিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসায় অফিস সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী ও দপ্তরী নিয়োগে অনিয়ম-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। প্রায় ১৭ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে বলে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মি। অন্যদিকে  ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় একটি গ্র্রপের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়োগের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সহ ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জার ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে আলোচনার ঝড়।

এই লিফলেট এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে।

¬স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিপাড়ার চান সিরাজিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসায় গত ২৬/৭/২০ তারিখে অফিস সহকারী পদে বালিপাড়া ই্উনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক মো: অহিদুজ্জামান, দপ্তরী পদে রনি মুন্সি এবং নিরাপত্ত প্রহরী পদে মিজান মাতুব্বরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে অহিদুজ্জামান অহিদের কাছ থেকে ৭ লাখ, রনি মুন্সির কাছ থেকে ৫ লাখ এবং মিজান মাতুব্বরের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে তিন জনের কাছ থেকে মোট ১৭ লাখ টাকা নেন মাদ্রাসা সভাপতি ইব্রাহীম খলিল। আর ছাত্রদল নেতা অহিদুজ্জামানের নিয়োগের ব্যাপারে মধ্যস্থতা করেন মাদ্রাসা সভাপতির শ্যালক ছাত্রদল নেতা ইউনুস আকন। গোপনে নিয়ম বহির্ভূত ও অবৈধভাবে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবিতে বালিপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক’শ লিফলেট বিতরণ করেন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মি। শুধু তাই নয়, এসব লিফলেট এবং অভিযোগপত্র ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাকর্মির ব্যক্তিগত ফেসবুকে পোষ্ট করা হয়েছে। এতে মাদ্রাসার সভাপতি ছাড়াও ঐ প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সুলতান শরীফকেও জড়ানো হয়।

এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানিয় কতিপয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মি। অভিযোগপত্রে নিয়োগে অনিয়ম ও বাণিজ্যে কথা তুলে ধরা হয়েছে। আর এ অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর। এ ঘটনায় কয়েকদিন আগে তারা লোকজন জড়ো করে বালিপাড়া বাজারে মানববন্ধন করার চেষ্টা চালালে পরে টের পেয়ে এদের বশ করতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ করেন মাদ্রাসা সভাপতি ইব্রাহীম খলিল। এক পর্যায়ে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় বালিপাড়া ইউনিয়ন সিনিয়র মাদ্রাসার অফিস সহকারী এবং ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এ হাচান হিরনকে ১ লাখ টাকা দেন ইব্রাহীম খলিল। পরে ঐ গ্রুপের প্রধান হিরন সহ স্থানীয় আ.লীগ ও যুবলীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের ১০/১২ জন নেতাকর্মি ঐ টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাকার ভাগ পাওয়া একজন জানান, মাদ্রাসা সভাপতি আমাদের বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য গত ২০ আগষ্ট ম্যানেজ করতে  এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় হিরনের হাতে ১ লাখ টাকা দেন। পরে ঐ টাকা তিনি ভাগ বাটোয়ারা করেন।

মাদ্রাসা সভাপতি ইব্র্র্র্রাহিম খলিলের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, একটি প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী দিয়ে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী এ নিয়োগ পক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়। এখানে গোপনে বা অনিয়ম বা টাকা পয়সার মাধ্যমে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। স্থানীয় কিছু লোক প্রভাগন্ড সৃস্টি করার জন্য এ ধরনের লিফলেট ছেড়েছে। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু লোককে ম্যানেজ করার জন্য টাকা পয়সার লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে হিরন সাংবাদিকদের জানান, আমরা কোন ভাবে ম্যানেজ হয়নি। এ নিয়োগ বানিজ্যের ব্যাপারে মানববন্ধন করার প্রক্রিয়াটি আপাতত স্থগিত। সময় এবং অবস্থা বুঝে আমরা এ ব্যাপারে পরে মানববন্ধন করব বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মাদ আল-মুজাহিদ জানান, বালিপাড়ার চান সিরাজিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসায় সম্প্রতি তিন জনের নিয়োগের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আমার কাছে একটি অভিযোগ পত্র আসে। তবে এটি নিয়ম অনুযায়ী মাদ্রাসা বোর্ড ব্যবস্থা নেবে। বোর্ড যদি বিষয়টি তদন্তের জন্য আমাকে কোন নির্দেশনা দেয় তখন আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারি।

 





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap