বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কোমড় সমান জোয়ারের পানির মধ্যে ছাত্রলীগ নেতার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান

কোমড় সমান জোয়ারের পানির মধ্যে ছাত্রলীগ নেতার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান

0 Shares

অনলাইন ডেস্ক।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কলাউপাড়া গ্রামটি জোয়ারের পানিতে থইথই করছে। এর মধ্যেই গায়ে হলুদের আয়োজন করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন লালুয়া ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন ফকির।

বাড়ির উঠানে পানি, ঘরের ভেতরে পানি। গ্রামীণ মেঠো পথ, কৃষি জমি—সব পানিতে তলিয়ে আছে। এক কথায় জোয়ারের পানিতে ভাসছে পুরো গ্রাম। এমন অবস্থার মধ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় একটি বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়েছে। উপজেলার কলাউপাড়া গ্রামের সেই অনুষ্ঠান এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে ব্যাপক আলোচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লালুয়া ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন ফকির গত ২৯ জুলাই বিয়ে করেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি রাঙ্গাবালী উপজেলার গাববুনিয়া গ্রামে। ২০ আগস্ট তিনি নববধূকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। ২২ আগস্ট দুপুরে জোয়ারের পানির মধ্যেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়। জোয়ারের পানিতে যখন চারদিক থই থই করছে, তখন তাঁর বাড়ির উঠানে চেয়ার পেতে বর-কনেকে হলুদ দেওয়া হয়। এতে স্বজনেরা অংশ নেন।

জোয়ারের পানির মধ্যে ব্যতিক্রমী গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন সবাইকে আকৃষ্ট করেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা মো. ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের সুখ-শান্তি কিছুই নাই। একটি জনপদ সব সময় পানিতে ডুবে থাকে, আর তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। এটা হতে পারে? জীবনকে তো থামিয়ে রাখা যাবে না। জীবন চলবেই। যে কারণে এমন একটি আয়োজন করতে হয়েছে। এটা সুখের সঙ্গে কষ্টের চিত্রও বহন করে।’

মহিউদ্দিনের বাবা আবদুল বারেক ফকির বলেন, ‘কী করমু কন? ঘরে পানি, বাইরে পানি। নাইম্যা কোথাও যে যামু, হেই পরিস্থিতি নাই। বাধ্য হইয়াই বাড়ির উডানে হলুদের আয়োজন করতে হইছে। তয় মনডায় শান্তি পাই নাই। আত্মীয়-স্বজন কাউকেই দাওয়াত করতে পারি নাই। গ্রামের মানুষ রান্না কইর‌্যা খাইবে, হেই পরিস্থিতিডা পর্যন্ত নাই। গ্রামের মানুষ বর্ষার পানি ধইর‌্যা রাইখ্যা, কোনো কোনো সময় দুরে গোনে পানি আইন্যা রান্নার কাজ করে। একটা কষ্টের জীবন আমরা পার করছি।’

কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের মানুষের সুরক্ষার জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় এখানকার ১২-১৩টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে আছে। প্রতিদিন দুই দফা জোয়ারের পানিতে গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
Design By MrHostBD
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap