সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিক নির্যাতনকারী ওসি প্রদীপের শাস্তি চাই : ধন্যবাদ বিএমএসএফকে

সাংবাদিক নির্যাতনকারী ওসি প্রদীপের শাস্তি চাই : ধন্যবাদ বিএমএসএফকে

0 Shares

মেজর (অবঃ) সিনহার হত্যা মামলার আসামী ও বরখাস্তকৃত টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপের ‘সাজানো মামলায় জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তাফা খান। ২৭ আগষ্ট সকাল ১১.৩০ টায় কক্সবাজার জেলা যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালত ফরিদুল মোস্তফাকে জামিন প্রদান করেন। এতে করে ১১ মাস কারাভোগ করে ফরিদুল মোস্তফা কারামুক্ত হলেন।

কথা হচ্ছে, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ নাকি সংবাদপত্র ও সাংবাদিক। রাজনীতিক, মন্ত্রী, সাংসদ, আমলা, প্রশাসন সবার মুখেই এই শব্দটি শোনা যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে রাষ্ট্রের এই স্তম্ভকে ওনারা নিজেদের পোষ্য হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন। এঁদের অনুসারী হয়ে খবর প্রকাশ করলে কোন সমস্যা নেই। তখন এদের মুখ থেকে গালভরা বাহাবা পাওয়া যায়। কোনভাবে যদি খবরটি এদের কারো বিপক্ষে যায় তাহলে আর রক্ষা নাই। রাজনীতিক, মন্ত্রী, সাংসদ, আমলা-কামলা-প্রশাসনের কর্তারা মিলে চতুর্থ স্তম্ভের রড, সিমেন্ট বালু আলাদা করে ফেলবেন। গুড়িয়ে দেওয়া হবে স্তম্ভ। মতের সঙ্গে না মিললে স্তম্ভকে দিগম্বর করতেও ছাড়েন না তারা। রাস্ট্রের একটি স্তম্ভ না থাকলে তাঁদের কিছু যায় আসে না। তিন ঠ্যাঙের টুলের মতো রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে থাকলেও এই কর্মকর্তাদের দাপট কমবে না।

ওসি প্রদীপ ও সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, যে দেশের গণমাধ্যম যতটা স্বাধীন সে দেশ ততো সমৃদ্ধ এবং উন্নত। গোটা দুনিয়ায় রাস্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। আর আমাদের দেশের চতুর্থ স্তম্ভের অবস্থা কেমন সেটা বুঝতে বেশি দূর যেতে হবে না। জেলায়, উপজেলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতন, মামলার চিত্র দেখলেই চতুর্থ স্তম্ভর করুণ দশা বোঝা যায়।

যাই হোক, সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার উপর যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল সেই কথা নিজেই স্বীকার করেছেন বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। সম্প্রতি টেকনাফের আরেক সাংবাদকর্মী রহমত উল্লাহর সঙ্গে ওসি প্রদীপের একটি কথোপকতনের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই অডিওতে শুনা যাচ্ছে ফরিদুল মোস্তফার উপর চালানো নির্যাতনের উদাহরণ দিয়ে তিনি সাংবাদিক রহমত উল্লাহকে হুমকি দিচ্ছেন। ওসি প্রদীপ সাংবাদিক রহমত উল্লাহকে বলছেন, আমার বিরুদ্ধে উল্টাপাল্টা লিখলে খবর আছে। এক পা আমার বাম পায়ের নিচে রেখে আরেক পা টেনে ছিড়ে ফেলমু। আমি জেল-ফাঁস কিছু মানি না। দেখেন না, ফরিদুল মোস্তফারে কি করেছি? উল্টোপাল্টা করলে ধরে এনে রান ফাইরা ফেলবো।

কি অবস্থা, একজন প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুখে এসব কথা কিভাবে আসে? এদের বেতনের টাকা আমাদের কষ্টের টাকায় হয়। তারা রাষ্ট্রের কর্মচারী আর আমরা জনগন রাষ্ট্রের মালিক। অথচ কর্মচারী হয়ে মুনিবের ওপর কি নির্মম এবং জঘন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। এটা হতে পারে না। এখন আর ব্রিটিশ শাসন আমল নেই। এটা হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশ। বড় কর্তা হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ বন্ধ করতে হবে। এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় বইছে গোটা দেশজুড়ে। সাংবাদিকের ওপর এমন নির্মম ঘটনায় দেশের বাইরেও সমালোচনা হচ্ছে। আমরা এমন ঘটনায় হতবাক হয়েছি। অবিলম্বে এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

আমরা বলছি না আমাদের প্রশাসনের সব কর্মকর্তারা এরকম আচরণ করেন। কিন্তু একজন প্রদীপ যে কালিমা লেপন করেছেন সেই কালিমা সব ওসির গায়েই লেগেছে। এখান থেকে অবশ্যই শিক্ষা নেওয়া উচিত। আপনারা হয়তো ভুলে গেছেন, আগৈলঝারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সলমানকে দোষ না করেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেদিন গণমাধ্যম সঠিক তথ্য দিয়ে তারিক সলমানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আইনের অপপ্রয়োগের তথ্য তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী ঘটনা জানতে পারেন। পরে তারিক সালমান মুক্ত হন। একই সঙ্গে দোষীদের শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে। সেটা যেমন আইনের প্রতি আমাদের আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে। আজও আইনের প্রতি আস্থা ফেরাতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের শাস্তি দিয়ে আইনের প্রতি আস্থা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ওসি প্রদীপ আইনের এমন অপপ্রয়োগ করেছেন তা আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক অঙ্গীকারের পরিপন্থি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর নামান্তর। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রশাসন তথা সরকারের ওপরই জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

আমরা কালি ও কলমের সঙ্গে থাকতে চাই। আমাদের আপনার সম্মান দেখানো দরকার নেই। কিন্তু কোনভাবেই অসম্মান করার অধিকার আপনার বা আপনাদের নাই। সেই অধিকার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আপনাদের দেয়নি। আমরা কোন প্রশাসনকেই প্রতিপক্ষ ভাবতে চাই না। আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা সহযোগী হয়ে পাশে থাকতে চাই। কিন্তু আমাদের ওপর চড়াও হলে তারও জবাব আমাদের জানা আছে। কালি ও কলমই আমাদের হাতিয়ার হবে। আর দেশের সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে আছে।

পরিশেষে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামকে (বিএমএসএফ) ধন্যবাদ জান্নাচ্ছি। সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার পাশে থেকে কাছ করেছেন। আশা রাখছি, ভবিষ্যতেও আপনাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ভালো থাকবেন।

প্রশান্ত কুন্ডু
সম্পাদক ও প্রকাশক
ইন্দুরকানী বার্তা





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap