সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

হতাশায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা

হতাশায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা

0 Shares

কমিউনিটি ক্লিনিক, গ্রামীণ জনপদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ভরসাস্থল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরে হাতে নেয় কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প। প্রকল্পের অধীনে নির্মাণ করা হয় স্থাপনা। গ্রামীণ জনপদে প্রতি ৬০০০ জনগনের জন্য একটি করে সারাদেশে প্রায় ১৪০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে সরকারের পালাবদলে বন্ধ হয়ে যায় কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম।

২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পুনরায় হাতে নেন কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প। পুরনো ক্লিনিকগুলো সংস্কার এবং প্রয়োজনে নতুন ক্লিনিক নির্মান করা হয় প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ২০১১ ইং সালে প্রত্যেক ক্লিনিকে সেবাদানের জন্য নিয়োগ করা হয় একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)।

যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং আন্তরিক সেবাদানে কমিউনিটি ক্লিনিক বর্তমান গ্রামীণ জনপদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে। দেশে বিদেশে কুড়িয়েছে অনেক সুনাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কমিউনিটি ক্লিনিককে মডেল হিসেবে দেখছে। কমিউনিটি ক্লিনিককে বলা হচ্ছে গরীবের হাসপাতাল। শনি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সপ্তাহে ছদিন তারা দিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য সেবা। বিভিন্ন রোগের সাতাইশ আইটেমের ঔষধ বিতরণ, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি বিতরণ ও পরামর্শ প্রদান, কফ,উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা,বিভিন্ন রোগ সম্বন্ধে নিয়মিত কাউন্সেলিং করা,গর্ভবতী,প্রসূতি ও কিশোরীদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান,বছরে দুবার শিশুদের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন ও কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানো,সরকারের নির্দেশিত বিভিন্ন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা,কমিউনিটি গ্রুপ ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে মাসিক মিটিং করা, নিমৃত অনলাইন রিপোর্টিং ও ও সেবা সংক্রান্ত মাসিক রিপোর্টিং করা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে নর্মাল ডেলিভারি করা সহ বিভিন্ন রকম সেবা প্রদান করছে সিএইচসিপিরা। আর বাড়ির পাশে হাতের কাছেই বিনামূল্যে এরকম স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে খুশি গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার কারনে সাধারণ রোগীদের চাপ কমছে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতাল গুলোতে। কিন্তু গরীবের ডাক্তার খেত সেই সিএইচসিপিরা পাচ্ছেননা সরকারি কর্মচারীদের মত প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা।
কয়েকজন সিএইচসিপির সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর একই বেতনে কাজ করে যাচ্ছে তারা। বছর শেষে মূল বেতনের সাথে যোগ হচ্ছে না তাদের কোন ইনক্রিমেন্ট। করোনাকালে শুরু থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুরোটা সময় নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে সিএইচসিপিরা। অথচ পুরো এই সময়ে মাত্র ৫-৭ টি সার্জিক্যাল মাস্ক আর ৫-৭ টি পিপিই হাতে পেয়েছে তারা, যেগুলো একবার ব্যবহার উপযোগী। করোনাকালে স্বাস্থ্য সেবা দিতে গিয়ে ২০০ এর অধিক সিএইচসিপি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারাও গেছেন দুইজন। কিন্তু সরকারের দেওয়া প্রণোদনার তালিকায় নেই তারা। এদের চাকরি রাজস্বখাতে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে এর আগে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও সেপথে এখন আর নেই কর্তৃপক্ষ এমনটাই হতাশার কথা জানালেন কয়েকজন কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নেতা। তবে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ দিকে এগোতে পারেনি তারা।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু বরন করা সিএইচসিপিদের পরিবারকে কোন আর্থিক সুবিধাও দেয়নি কর্তৃপক্ষ। সঙ্গত কারণেই হতাশা গ্রাস করেছে এই প্রকল্পে কাজ করা কর্মীদের। এভাবে চলতে থাকলে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান কমতে থাকবে বলে ধারনা করছে সংশ্লিষ্টরা।
ইতিমধ্যে অনেক মেধাবী সিএইচসিপি এই পেশা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। অনেকেই রাজস্বের আশ্বাস দেওয়া চিঠির উপর ভরসা করে শেষ করে ফেলেছেন সরকারি চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা। সময়ের প্রয়োজনে দিনদিন কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো হচ্ছে আধুনিকায়ন,বাড়ছে সেবার মান কিন্তু বাড়েনি প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সিএইচসিপিদের কাঙ্ক্ষিত সুযোগ সুবিধা। তাই সামান্য বেতনে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরিরত স্বাস্থ্যকর্মীরা হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন।





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap