শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

স্বপ্নের ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা

স্বপ্নের ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা

0 Shares

ক্রীড়া ডেস্ক:
নেইমারের চাওয়াটা পূরণ হয়েছে! রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের ১-১ গোলের ড্র শেষে টাইব্রেকারে আলবিসেলেস্তেদের জয়ের নায়ক গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার তিনটি শট ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আর তাতে ২০১৬ কোপার পর প্রথমবার ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। এই জয়ে টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকলেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ১১ জুলাই ফাইনালের মহারণে ব্রাজিলের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা। আরেকটি সুপার ক্লাসিকোর অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এদিন ম্যাচের শুরু থেকে দুই দল জায়গা ধরে খেলতে চেষ্টা করে। আগের পাঁচ ম্যাচের ধারা বজায় রেখে এদিনও শুরুতেই গোল পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৬ মিনিটের মাথায় জিও লো সেলসোর নিখুঁত পাস পেয়ে যান ডি-বক্সে ভেতর থাকা মেসি। কলম্বিয়ার এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মেসি বল বাড়িয়ে দেন লাওতারো মার্টিনেজকে। অনেকটা ফাঁকায় থাকা মার্টিনেজ বলকে জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি। আর্জেন্টিনা অবশ্য এগিয়ে যেতে পারত শুরুর ৪ মিনিটেই। মেসির ক্রস নিকোলাস গঞ্জালেস ঠিকঠাক হেড করলেও বাঁ প্রান্তের বার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠার চেষ্টা চালায় কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনার রক্ষণে ভীতি সঞ্চার করেন কুয়াদ্রাদোররা। বল দখলেও এগিয়ে থাকেন কলম্বিয়ানরা। প্রথমার্ধে গোলের জন্য একের পর এক শট নিলেও পোস্টে রাখতে পেরেছেন তাঁরা মাত্র একটি শট।

শরীরনির্ভর খেলায় বিশেষ ‘খ্যাতি’ আছে কলম্বিয়ার। তবে এদিন পিছিয়ে ছিল না আর্জেন্টিনাও। দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধে কলম্বিয়ার ১৩ ফাউলের বিপরীতে আর্জেন্টিনা ফাউল করেছে ৭টি। দুই দলের নামের পাশে হলুদ কার্ড অবশ্য সমান একটি করে।

কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেতে দ্বিতীয়ার্ধে মিডফিল্ডার গুস্তাবো কুল্লারকে বসিয়ে ইয়েমি চারাকে মাঠে নামায় কলম্বিয়া। সঙ্গে আরও দুটি পরিবর্তন আনে তারা। আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোনিলার জায়গায় মাঠে নামেন গঞ্জালো মন্ট্রিয়েল। শরীরনির্ভর ফুটবল কলম্বিয়া টেনে আনে দ্বিতীয়ার্ধেও। মেসিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড খান পাবরা। তবু আক্রমণ চালিয়ে যায় কলম্বিয়া। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় কলম্বিয়া ম্যাচে ফেরে ৬১ মিনিটে। দারুণ দক্ষতায় গোল করেন পোর্তোর উইঙ্গার লুইস দায়াজ।

আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনাও। ধার বাড়াতে ৬৬ মিনিটে নিকোলা গঞ্জালেসকে তুলে আনহেল ডি মারিয়াকে মাঠে নামান কোচ লিওনেল স্কালোনি। সুযোগও পান ডি মারিয়া। যদিও কলম্বিয়ান গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ হাতছাড়া করেন পিএসজি তারকা।

আর্জেন্টিনার জন্য এগিয়ে যাওয়ার দারুণ মুহূর্ত আসে দ্বিতীয়ার্ধের ৮০ মিনিটে। ডি মারিয়ার দারুণ দক্ষতায় বাড়ানো বলে মেসির শট বারে লেগে ফেরত এলে আরেকবার হতাশ হতে হয় আর্জেন্টাইনদের। পরক্ষণে ডি-বক্সের ভেতর থাকা রদ্রিগো ডি পল ফিরতি শট নিলে সেটাও কলম্বিয়ান রক্ষণে প্রতিহত হয়।

নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় কলম্বিয়ার গোলমুখে ঢোকার চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু থামতে হয় কলম্বিয়ান রক্ষণের ট্যাকলে। ফ্রি-কিক পেলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ১-১ গোলের ড্রয়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ–বীরত্বে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।

ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় মেসিদের উচ্ছ্বাস হলো দেখার মতো। শেষ পর্যন্ত তাঁরা হাসিটা ধরে রাখতে পারবেন কি না, সেটি ১১ জুলাই জানা যাবে। তবে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ১১ জুলাই হতে যাচ্ছে দুর্দান্ত এক দিন, যে দিন দেখা মিলবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার এক ধ্রুপদি লড়াই।





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap