বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

ইন্দুরকানীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেতে ইউপি সদস্যকে ঘুষ না দেওয়ায় মারধর করার অভিযোগ; প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

ইন্দুরকানীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেতে ইউপি সদস্যকে ঘুষ না দেওয়ায় মারধর করার অভিযোগ; প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

0 Shares

নিজস্ব প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেতে ইউপি সদস্যকে ঘুষ না দেওয়ায় মারধর করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে উপহারের ঘর বরাদ্দ পাওয়া ভুক্তভোগীরা।

২৬ জুলাই সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বক্তব্য রাখেন পাড়েরহাটের উমেদপুর আবাসনের সাধারণ সম্পাদক মো. আছাদুল ইসলাম, তার স্ত্রী রুমা বেগম, মো. ছালেক হাওলাদারসহ ওই আবাসনের বাসিন্দারা।

এর আগে, গতকাল ২৫ জুলাই রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে বসেই আছাদুলকে মারধর করেন ওই ইউপি সদস্য।

এ সময় তারা উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোহাসিন হাওলাদার কর্তৃক ওই ওয়ার্ডের ওমেদপুর সরকারি আবাসনের ঘর দেওয়ার নামে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ করেন। এছাড়াও ওই আবাসনের লোকজনের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ করা হয়। আর ঘুষ না দেওয়ায় তিনি ও তার নিজস্ব লোকজন কর্তৃক মারধরসহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ওই আবাসনের সাধারণ সম্পাদক মো. আছাদুল ইসলাম মাঝি জানান, ইউপি সদস্য মোহাসিন হাওলাদার ওই আবাসনের সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন। টাকা দিতে না পারলে তাদের নামে ঘর দেননি।
তিনি আরও জানান, এর আগে তিনি (আছাদুল) মেম্বারের লোক (কর্মী) হিসাবে কাজ করতেন। কিন্তু সম্প্রতি আছাদুল মেম্বারের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় এবং আরও মামলা দেয়াসহ তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দেন। রোববার (২৫ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে বসেই আছাদুলকে মারধর করেন ওই ইউপি সদস্য।
তিনি আরও জনান, সোমবার (২৬ জুলাই) সকালে ওই আবাসনের লোকজন নিয়ে মানববন্ধন করতে ট্রলারে করে ইন্দুরকানীতে রওনা দিলে ওই মেম্বারের লোকজন আছাদুল ও তার স্ত্রী রুমা বেগমসহ ছালেক হাওলাদারকে মারধর করে। এ সময় হামলাকারীরা মানববন্ধনে আসতে ব্যবহৃত ট্রলার আটকে দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মাৎ লুৎফুন্নেসা খানম জানান, সেখানে কোনো মারামারি হয়নি। উচ্চ স্বরে বাক্য বিনিময় হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোহাসিন হাওলাদার তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সামনে ইউপি নির্বাচন তাই কেউ আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এমন অভিযোগ তৈরি করছেন।
ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির জানান, রোববার (২৫ জুলাই) সেখানে মারামারির খবর পেয়ে দুইবার পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আজ সেখানে আমি (ওসি) গিয়ে আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ও মিটিং করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। এখনও কারো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, ওই আবাসনের সাধারণ সম্পাদক আছাদুল ইসলাম মাঝি এর আগে ওই ইউপি সদস্য মোহাসিন হাওলাদারের লোক ছিলেন। এ সময় আছাদুল ইউপি সদস্য মোহাসিনের পক্ষ হয়ে ওই আবাসন থেকে ও ঘর দেওয়ার নামে চাঁদাবাজি করতেন। সম্প্রতি আছাদুল ইসলামের ইউপি সদস্যের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হলে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap