বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে সমুদ্রে হচ্ছে দীর্ঘ রানওয়ে

কক্সবাজারে সমুদ্রে হচ্ছে দীর্ঘ রানওয়ে

0 Shares

অনলাইন ডেস্ক:
পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম কক্সবাজার বিমানবন্দর। দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রানওয়ে হবে এ বিমানবন্দরে। এই রানওয়ের একটি অংশ থাকবে বঙ্গোপসাগরের ভেতরে। ২০২৪ সালে প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইটে কক্সবাজারে আসতে পারবেন পর্যটকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্র তীরবর্তী জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে বিমানবন্দরের উন্নয়নে আরও পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার– যাতে আন্তর্জাতিক বিমান কোম্পানিগুলো তাদের বড় বড় বিমানকেও এই বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে পারে।
প্রকল্প পরিচালক ইউসুফ ভূঁইয়া বলেন, ১০ হাজার ৭০০ ফুট দীর্ঘ এই রানওয়ের এক হাজার ৩০০ ফুট থাকবে সমুদ্রের মধ্যে। এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়ে। বর্তমানে সবচেয়ে দীর্ঘ রানওয়েটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এটির দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৫০০ ফুট। রানওয়ের নির্মাণকাজ শেষ হলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড়োজাহাজ অবতরণ ও উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজের দুপাশে থাকবে বঙ্গোপসাগরের জলরাশি।

এর আগে ২০১৫ সালের প্রকল্পের আওতায় রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুট এবং প্রস্থ ১২০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছিল। এবারে সেটাকে আরও ১ হাজার ৭০০ ফুট বাড়ানো হচ্ছে।

চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর : ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পর কক্সবাজারকে বাংলাদেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য এই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে নতুন টার্মিনাল ভবন। এ ছাড়া বসানো হচ্ছে গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম, ইনস্ট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম, নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ ও বাঁকখালী নদীর ওপর সংযোগ সেতু। সব মিলে প্রায় পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। তবে শুধু রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য খরচ করা হচ্ছে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি।

যেভাবে সমুদ্রের ভেতরে তৈরি করা হচ্ছে রানওয়ে : এরই মধ্যে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ইউসুফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি ও চলতি বর্ষার অধিকাংশ সময়ই বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও রানওয়ের কাজ থেমে নেই। পুরো বিমানবন্দর এলাকার ময়লা-আবর্জনা সরানো থেকে মাটি কাটা ও ঢালাইয়ের কাজ সমানে চলছে।

প্রকৌশলীরা বলছেন, সম্প্রসারিত অংশ সমুদ্রের যেটুকু জুড়ে হবে সেখানে পানিতে ব্লক, জিওটিউব ইত্যাদি ব্যবহার করে শুরুতেই একটি বাঁধের মতো তৈরি করা হবে। পরে বাঁধের ভেতরের পানি সেচ করে ফেলা হবে এবং ড্রেজিং করে ভেতরে এনে ফেলা হবে বালু। বালু দিয়ে ভরাটের মাধ্যমে সমুদ্রের ওই অংশটি ভরাট হলে সেখানে ‘স্যান্ড পাইলিং’-এর মাধ্যমে রানওয়ের ভিত তৈরি করা হবে। সবশেষে পাথরের স্তর বসিয়ে পুরো রানওয়ে সিল করে দেওয়া হবে। তার ওপর হবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ।

কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো এ প্রক্রিয়ায় কোনো বিমানবন্দরের রানওয়ে তৈরি হচ্ছে। শুরুতে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, শহরের দিকে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করা যায় কি না। কিন্তু দেখা যায়, এতে শহরের একটি বড় অংশ বিমানবন্দরের দখলে চলে যাবে। এর মধ্যে বিলাসবহুল কয়েকটি হোটেল, আবাসিক ভবন, লাবণী বিচ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনা রয়েছে।

এ কারণে বিমানবন্দরের উল্টো পাশে মহেশখালী চ্যানেলের দিকে সমুদ্রের ওপরই এ রানওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানবন্দর প্রকল্পের প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, সোনাদিয়া দ্বীপের বুক চিরে মহেশখালী চ্যানেলের কিছু অংশ ভরাটের মাধ্যমে যখন কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে তখন দেখা যাবে সৌন্দর্যের আরেক ভিন্ন জগৎ। সব মিলে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হতে তিন বছরের কিছু কম সময় লাগবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

বর্তমানে কক্সবাজারের রানওয়ে ও অবকাঠামো সব ধরনের বিমান চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। কর্মকর্তারা বলছেন, রানওয়ে সম্প্রসারণ হলে এই বিমানবন্দরে বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিসর উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৪৭-এর মডেলের যাত্রীবাহী বিমানও এখান থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। এ ছাড়া এখানে রিফুয়েলিংয়েরও ব্যবস্থা থাকবে।

সব মিলে বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট সংখ্যার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।’’





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap