বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ১০:২২ অপরাহ্ন

ইন্দুরকানীতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন; ২২ নেতাকর্মীর পদত্যাগের ঘোষণা

ইন্দুরকানীতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন; ২২ নেতাকর্মীর পদত্যাগের ঘোষণা

0 Shares

স্টাফ রিপোর্টার:
কমিটি গঠনে বানিজ্য, আওয়ামীলীগের সাথে আতাতকারী ও অযোগ্যদের কমিটিতে স্থান দেয়ার অভিযোগে ইন্দুরকানীতে সংবাদ সম্মেলন করে ৩৬ সদস্যের উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০জুন) সকাল ১১ ঘটিকায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ইন্দুরকানী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে তারা এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগ পত্রে ২২ জনের স্বাক্ষর থাকলেও এ সময় ৮ জন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ শিকদার। লিখিত বক্তব্যে তারা জেলা ও উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে কমিটি গঠনে উৎকোচ গ্রহন, আওয়ামীলীগের সাথে আতাতকারী ও দীর্ঘদিন দলে নিস্কিৃয়দের কমিটিতে স্থান দেয়ার অভিযোগ তোলেন। উদাহরন হিসাবে তারা বালিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল জলিল ২ বছর আগেও দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না এবং শহিদুল ইসলাম বাবুল দলে নিস্ক্রিয় হলেও তাকে আহবায়ক করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়। সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম- আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহবায়ক ও সাংবাদিক এম আহসানুল ছগির, আবুল কালাম আজাদ, সদস্য দুলাল ফকির, নুরুজ্জামান নাদিম, আবুল কালাম খান।

সদ্য ঘোষিত বালিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে সদস্য সচিবের পদ পাওয়া আব্দুল জলিল জানান, আমি ছোটবেলা থেকে বিএনপির অনুসারী। তাই বিএনপিকে ভালোবাসি। দলের এই দুঃসময়ে সংগঠনের জন্য কাজ করছি। তাই নেতৃবৃন্দ যোগ্য মনে করেই আমাকে এ পদে বসিয়েছেন। আমার ইউনিয়নে নিজ দলের একজন নেতার কারণে এখানকার কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হয়ে আসছে। দিনে বিএনপি আর রাতের বেলা ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের সাথে আঁতাত করে নানা সুবিধা নেয় এই হল তার চরিত্র।
তিনি আরো বলেন, আমার কমিটির আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বাবুল একজন সাংগঠনিক এবং ক্লিন ইমেজের লোক। দল মত নির্বিশেষে সবাই তাকে পছন্দ করে।

উপজেলা বিএনপি যুগ্ন আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক তার অভিযোগে বলেন,যারা দীর্ঘদিন দলের সাথে থেকে হামলা মামলার শিকার হয়েছেন সেসব ত্যাগী নেতাকর্মীদের পদে না রেখে অযোগ্যদের দলের পদ পজিশন দেওয়া হয়েছে। তাই দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর কবির মান্নু বলেন, যারা কমিটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা সাংগঠনিকভাবে বিএনপি গতিশীল হোক ও এগিয়ে যাক তা চায় না। যারা নিজ দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে, মামলা বাণিজ্য করছেন, আওয়ামী লীগের সাথে জোগসাজোস করে কেন্দ্রের নির্দেশনা অমান্য করে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ, সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অর্থ বাণিজ্য করেছে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকদের সাথে যাদের সমন্বয় নাই তাদেরকে বাদ দিয়ে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের ইউনিয়ন কমিটিতে পদ দেয়া হয়েছে।

কমিটি বাণিজ্যের বিষয় তিনি আরো বলেন, যারা সাংগঠনিকভাবে যোগ্য তাদেরকেই কমিটিতে পদ দেয়া হয়েছে। এখানে অর্থ বাণিজ্যের কোন প্রশ্নই আসে না। এসব অভিযোগ যারা তুলছে তাদের রাজনৈতিক চরিত্র সম্পর্কে বিএনপি’র তৃণমূল সহ এ উপজেলার সবাই জানে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফরিদ হোসেন বলেন, নিয়ম অনুসারে জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দের সবার সাথে আলোচনা করেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে কোন রকম বানিজ্য হয়নি। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামাল লাভলু বলেন, কারা পদত্যাগ করেছে এবং কি কারনে করেছে তা জানিনা। কপি হাতে পাওয়ার পর বলতে পারব। আর বিএনপিতে কমিটি গঠনে বানিজ্যের কোন প্রশ্নই আসেনা। যারা বিভিন্ন কারণে পথ বঞ্চিত হয় তারাই কেবল বানিজ্যের অভিযোগ তোলে।





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
Design By MrHostBD
Copy link
Powered by Social Snap