সোমবার, ২২ Jul ২০২৪, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

পিরোজপুরে সংরক্ষিত আসনে ফের মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য ডরথী রহমান

পিরোজপুরে সংরক্ষিত আসনে ফের মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য ডরথী রহমান

0 Shares

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
‘মহান স্বাধীনতার স্থপতি বাংলাদেশের অবিসংবাদিত বিশ্বনেতা বাঙালি জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন সহচর ছিলেন আমার পিতা। আমার পিতা ছিলেন একজন ভাষা সৈনিক, প্রাক্তন গণপরিষদ সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বরেণ্য-বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ জননেতা মরহুম ডাঃ গোলাম ছারওয়ার।বঙ্গবন্ধু’র ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থেকেছেন। তাঁর জীবদ্দশায় তথা রাজনৈতিক জীবনে অর্থের প্রলোভনে, মন্ত্রীত্বের লোভে স্বীয় দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেনি। সামরিক শাসক জেনারেল জিয়ার সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে তার দলে টানার জন্য অনেক চাপাচাপি, হুমকি-ধামকি এমনকি প্রচুর অর্থের লোভ দেখিয়েও এক চুল পরিমাণ ও তার নিজের অবস্থান থেকে তাকে সরাতে পারেনি। তিনি ১৯৭০ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৭৩ সালে মনোনয়ন না পেলেও পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে পুনরায় পেয়েছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমার পিতা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি এলাকার মুক্তি যোদ্ধাদের সংগঠিত করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন‌। বঙ্গবন্ধু তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।

দুর্ভাগ্য আমাদের সে সময়েই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার এবং অন্যান্যদের চক্রান্ত করে নির্মমভাবে হত্যা করে বাংলার মীর-জাফর ঘাতকেরা। তাঁরা হয়তো ভেবেছিল সব শেষ! কিন্তু তাঁরা জানতো না, বাংলার বুক থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নাম কখনোই মুছবেনা। যতদিন রবে এই বাংলা, তার আকাশে বাতাসে অজস্র প্রাণের শ্রদ্ধা ভরা ভালোবাসা থাকবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতি চির-অম্লান। তাঁর আদর্শে পথ চলবে কোটি কোটি জনতা।

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমার পিতা ছিলেন একজন সৎ, কর্মঠ, মিতব্যয়ী, ন্যায়পরায়ণ, মেধা সম্পন্ন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বগুড়া জেলার শেরপুর ডিগ্রী কলেজ ও ধুনট ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং জনসাধারণের কল্যাণ সাধনে নিজেকে সব সময় নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক তার সরকারের ভিত্তি নিয়ে কৃষি অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করার জন্য জার্মানির ড্রেসডেন শহরে গমন করেছিলেন, সেখান থেকে তিনি সফলতার সঙ্গে কৃষি অর্থনীতিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন। ইউরোপ থেকে আমেরিকা মহাদেশের অনেক উন্নত দেশে তিনি ভ্রমণ করেছেন শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের জন্য। দেশের প্রকৃত কল্যাণ, উন্নয়ন আর অর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল সব সময় উজ্জ্বল ও অগ্রণী। বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন। একজন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে তিনি দেশখ্যাত ছিলেন। মানুষের জন্য সুষ্ঠু ও সুন্দর ব্যবস্থাপনায় সামাজিক জীবন যাপনের লক্ষ্য এবং তাদের প্রভূত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে আমার মরহুম পিতা ডাঃ গোলাম ছারওয়ার তার স্বীয় জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন।

সাবেক সবানেত্রী মরহুমা কোহিনূর ছারওয়ার আমার মাতা, তিনি ছিলেন বগুড়া মহিলা আওয়ামী লীগের প্রথম সভানেত্রী ও একজন সমাজসেবক। তিনি তৃণমূল মানুষের কাছে থেকে ভালোবেসে সেবা দিয়ে গেছেন। সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে সব সময় পাশে থেকে তাদেরকে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন।

আমি সুরাইয়া নিগার সুলতানা ওরফে মোছাঃ ডরথী রহমান, পিরোজপুর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য। আমার নিজ জেলা বগুড়া। বর্তমান ঠিকানা: কোহিনূর গার্ডেন ভ্যালি, জ্বলেসরিতলা বগুড়া। পিতা-মাথার হাত ধরেই গুটি গুটি পা’য়ে পথ চলা, ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ শুরু। এভাবেই আমি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছি। আমি জরবাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের বগুড়া জেলা শাখার উপদেষ্টা ও রেড ক্রিসেন্ট-এর আজীবন সদস্য। শিশু-কিশোর খেলাঘর আসরেও এক সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি বগুড়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা অসচ্ছল আওয়ামী লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মীদের সর্বদা আর্থিক ও মানসিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করা ছাড়াও নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে প্রতিনিয়ত দাঁড়িয়েছি এবং আগামীতেও দাঁড়াবো। বলতে গেলে আমার মূল অভিজ্ঞতার পিছনে বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর আদর্শের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মীর আত্মপরিচয় হিসেবে তুলনা করা যায়। তারপর আমার শ্রদ্ধাভাজন মাতা-পিতার আদর্শ আমাকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

একাদশ সংসদের শেষ বছরের শেষের দিকে মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার’ শ্রদ্ধেয় চাচি শেখ এনি রহমান-এর মৃত্যুর পর, পিরোজপুরের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন দিয়ে আমাকে এমপি’র দায়িত্ব দিয়েছেন, এবং আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে সেই দায়িত্ব পালন করেছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র প্রতি। তিনি আমাকে ভালোবাসেন বলেই, তার শ্রদ্ধেয় চাচি এনি রহমান-এর আসন, একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করছেন। আমি সব সময়ই একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে বিশ্বস্ততার সাথে দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো ইনশাআল্লাহ্। মানবতার মা’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। এবং আগামীতেও যদি





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
Design By MrHostBD
Copy link
Powered by Social Snap