শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

ঋণের চাপে নারীর আত্মহত্যা: ডাক দিয়ে যাই এনজিওর ছয় কর্মকর্তার নামে মামলা

ঋণের চাপে নারীর আত্মহত্যা: ডাক দিয়ে যাই এনজিওর ছয় কর্মকর্তার নামে মামলা

0 Shares

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ঋণ পরিশোধের চাপে এক নারীর আত্মহত্যার ঘটনায় গতকাল শনিবার মামলা করা হয়েছে। এতে ‘ডাক দিয়ে যাই’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছয় কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার উত্তর-পশ্চিম সোহাগদল গ্রাম থেকে তাসলিমা বেগম (৫০) নামের ওই নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন ‘ডাক দিয়ে যাই’র ইন্দেরহাট শাখার ফিল্ড অফিসার সমির চন্দ্র ঘোষ, সাইফুর রহমান, আহাদ হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. শাহজাহান গাজী, এরিয়া ম্যানেজার আসাদুজ্জামান মিলন ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দীপংকর শীল। মামলায় আসামিদের প্ররোচনায় তাসলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার বাদী তাসলিমার ছেলে মো. তামিমের দাবি, তাঁর ছোট ভাই মিরাজ স্ত্রীর নামে ‘ডাক দিয়ে যাই’ এনজিওর ইন্দেরহাট শাখা থেকে ৪০ হাজার টাকার ঋণ নেয়। এতে তাঁর মাকে সাক্ষী রাখা হয়। মিরাজ কয়েকটি কিস্তি পরিশোধের পর বাড়ি থেকে সটকে পড়ে।

কিস্তিখেলাপি হওয়ায় এনজিওর লোকেরা বাড়িতে এসে মাকে চাপ দিচ্ছিলেন। ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় এনজিওর লোকজন বাড়িতে এসে মাকে নানা কথা বলেন। তাঁকে বলা হয়, ‘এ রকম কুলাঙ্গার ছেলে আপনি কেন জন্ম দিয়েছেন? আপনি মরেন না কেন? আপনি মরলেও আমরা বেঁচে যেতাম।’

তামিম বলেন, ‘তাঁদের এমন কথায় আমার মা রাতেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরদিন সকালে বাড়ির পাশে একটি বাগানে তাঁর ঝুলন্ত লাশ পাই। ‘ডাক দিয়ে যাই’ এনজিওর লোকদের এমন কথায় মা আত্মহত্যা করেছেন।’

ডাক দিয়ে যাই এনজিওর পরিচালক তাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘তাদের ঋণগ্রহীতা কলি বেগম নামের এক গৃহবধূ অভিযোগকারী পরিবারের পুত্রবধূ। তাঁরা ওই বাসায় থাকতেন। তাই আমার অফিসের লোক তাঁদের বাসায় গিয়ে কলির শাশুড়ি তাসলিমার কাছে কলি ও তাঁর স্বামী মিরাজের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন মাত্র, আর কিছু নয়।’

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার জানান,আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

সূত্র: দৈনিক আজকের পত্রিকা।





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
Design By MrHostBD
Copy link
Powered by Social Snap