সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আ.লীগের তিন প্রার্থীর টেনশন বিএনপির ফায়জুল কবিরকে নিয়ে

আ.লীগের তিন প্রার্থীর টেনশন বিএনপির ফায়জুল কবিরকে নিয়ে

0 Shares

জে আই লাভলু:
আগামীকাল ৮মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ইন্দুরকানী উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান দুটি পদে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৪ জন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহন করা ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই হচ্ছে আ.লীগের এবং একজন বিএনপির। বিএনপি-জামায়াত গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেও এ উপজেলা থেকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য ফায়জুল কবির তালুকদার। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করায় যদিও তিনি ইতোমধ্যে দল থেকে বহিস্কার হয়েছেন তারপরও বিএনপি-জামায়াতের ভোট ব্যাংক খ্যাত এ উপজেলায় তিনিই একক প্রার্থী থাকায় আ.লীগের তিন প্রার্থীর টেনশন শুধু এখন তাকে নিয়েই। কেননা এ উপজেলাটিতে আ.লীগের সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ পারসেন্ট ভোট রয়েছে। এছাড়া জামায়াতের ২০ পারসেন্ট আর বাকিটা বিএনপি সমর্থিত। রিজার্ভ ভোটের দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের ভোট। এ কারনে আ.লীগের তিন প্রার্থী এবং তাদের অনুসারী কর্মি-সমার্থক ও দলীয় নেতাকর্মিসহ সাধারন ভোটারদের শেষ মুহুর্তের হিসেব নিকেশে বিএনপির ফায়জুল কবিরের সাথেই মুল প্রতিদ্বন্ধীতা হবে বলে এমনটাই ধারনা সবার। তবে বিএনপির একটি অংশ ভোট বর্জনে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা মাথায় রেখে ভোট কেন্দ্রে না আসতে চাইলেও দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মি সমার্থকদের অনেকেই এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না। অপরদিকে আ.লীগের নেতাকর্মি সমার্থকরা গত সংসদ নির্বাচনের ন্যায় এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর সাথে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

জানা যায়,গত ২৩ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্ধের পর চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সভাপতি এ্যাড এম মতিউর রহমান (মটর সাইকেল), পিরোজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল আহসান গাজী (আনারস), উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদ ইমরান (কাপ পিরিচ) এবং উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ ফায়জুল কবির তালুকদার (দোয়াত কলম) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।

এছাড়া পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাগা (টিউবয়েল),উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহামুদুল হক দুলাল (তালা), সহ-সভাপতি ও শিক্ষক নেতা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন সেলিম (বই) ও উপজেলা মৎস্য লীগের সভাপতি এস এম কামাল হোসেন (টিয়া পাখি) এবং সংরক্ষিত মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আ.লীগের সভানেত্রী দিলরুবা নাহার মিলন (প্রজাপতি) এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রায়াত দেলোয়ার হোসেন হাওলাদারের মেয়ে দিলারা পারভিন লাভলী (কলস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।

প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকে সব প্রার্থীরাই জোরেশোরে চালিয়েছেন তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। বিভিন্ন হাট বাজার ও পাড়া মহল্লা সহ প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থণা করেছেন কর্মি-সমার্থকরা। সব প্রার্থীরাই মরিয়া হয়ে ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। পথসভা ও উঠান বৈঠক করে দিয়েছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। দু’সপ্তাহের ঘাম ঝরানো নির্ঘুম প্রচার প্রচারণা শেষে প্রার্থী ও তাদের কর্মি-সমার্থকরা কষছেন ভোটের হিসেব নিকেশ। চেয়ারম্যান এবং ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন। তবে ভোটার উপস্থিতির উপর নির্ভর করে কিছু কিছু প্রার্থীর জয় পরাজয়ের হিসেব নিকেশ। ভোটের দিন বৃস্টির বাগড়া থাকলে কেন্দ্র গুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার আশংকা রয়েছে। আর এর জন্য জনসমর্থনে এগিয়ে থাকা কিছু প্রার্থীর পুড়তে পারে কপাল। উপজেলাবাসী শান্তিপূর্ণ ভোটের আশা করলেও সাধারন ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে নানা শংকা। এমন শংকার মধ্যে রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে ভোট। আর এ ভোটে কে হচ্ছেন এ উপজেলার পরবর্তী চেয়ারম্যান এবং ভাইস-চেয়ারম্যান এমন জলল্পোনা কল্পোনা রিবাজ করছে সকল ভোটারদের মাঝে।

উপজেলা নির্র্বাচন অফিস সূত্রমতে, এ উপজেলায় বর্তমানে ৭০ হাজার ৮’শ ৪৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৩৬৪২৩ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ৩৪৪২৫ জন। মোট ৫টি ইউনিয়নে ৩৫টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহণ। এজন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।

চেয়ারম্যান প্রার্থী ফায়জুল কবির তালুকদার বলেন, নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে এবং ভোটাররা নির্বিগ্নে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।

জিয়াউল আহসান গাজী বলেন, আমি একজন সেবক হিসেবে এ উপজেলাবাসীর সুখে দু:খে পাশে থাকতে চাই। দলমত নির্বিশেষে আমার ব্যাপক জনসমর্থণ রয়েছে। আমার বিশ^াস উপজেলাবাসী ৮ মে বিপুল ভোটে আমাকে বিজয়ী করবেন। কারন মানুষ পরিবর্তন চায়। আর আমি বিজয়ী হলে ইন্দুরকানীকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।

এ্যাড. এম মতিউর রহমান বলেন, আমি বিগত ৫ বছর জনগণের প্রত্যাশা পুরনের জন্য যথাসাথ্য চেস্টা করেছি। উপজেলার সব গুলো ইউনিয়নে আমি কম বেশি অনেক উন্নয়ন মুলক কাজ করেছি। নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে একটি স্বার্থনৈষী মহল আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার উন্নয়ন এবং শান্তি শৃংক্ষলা বজায় রাখতে উপজেলাবাসী সকল প্রকার ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আমাকে মটর সাইকেল প্রতীকে ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস।





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
Design By MrHostBD
Copy link
Powered by Social Snap