মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

নাজিরপুরে কলেজ ছাত্রী ও স্কুল ছাত্রকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ:আটক-১

নাজিরপুরে কলেজ ছাত্রী ও স্কুল ছাত্রকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ:আটক-১

0 Shares

ইন্দুরকানী বার্তা ডেস্ক:
পিরোজপুরের নাজিরপুরে দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজ ছাত্রী ও দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রকে দিনভর আটক রেখে মারধর ও চাঁদা দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় ওই কলেজ ছাত্রীকে যৌন হয়রানীসহ উভয়কে বিবস্ত্র করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছে স্থানীয় কতিপয় বখাটে।

তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা আহত ওই ছাত্র-ছাত্রীকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক তাদের ভর্তির উদ্যোগ নেয়। এ সময় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি আহতদের হাসপাতাল থেকে তার বাসায় নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার নামে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সংবাদ পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশ ঐ বাসা থেকে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনার মুল আসামী মনিরকে আটক করেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই কলেজছাত্রী জানান, গতকাল বুধবার সকালে ওই কলেজ ছাত্রী নাজিরপুর উপজেলা সদরে প্রাইভেট পড়া শেষে তার প্রতিবেশী ছোট ভাই দশম শ্রেণির ছাত্র সজিবকে সাথে নিয়ে উপজেলার শাখারীকাঠী ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামে দাদার বাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সকাল ৯টার দিকে ওই ইউনিয়নের গোপেরখাল নামক এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় বখাটে মনির, অভিজিৎ, শফিক মল্লিক ও শুভ তাদের পথরোধ করে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা (বখাটেরা) তাদের দুজনের মধ্যে কি সর্ম্পক জানতে চায়। তখন ওই ছাত্রী সজিব তার প্রতিবেশী ছোট ভাই বলে জানালে তারা (বখাটেরা) তাদের দুজনকে মারধর করে এবং ওই তাদের মধ্যে অবৈধ সর্ম্পক আছে এ কথা বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। তাতে রাজি না হওয়ায় তাদের দুজনকেই মারধর করে। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক ওই দুই ছাত্র-ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। ওই বখাটেরা তাদের দু’জনকে দিনভর সেখানে আটক রাখার পর তাদের অভিভাবকদের ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলে। এতে রাজী না হওয়ায় তাদেরকে পুনরায় মারধর করে। এ সময় স্থানীয়রা চিৎকার শুনে আহত ছাত্র-ছাত্রী দু’জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যার দিকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ সময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক তাদের ভর্তির উদ্যোগ নিলে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি আহতদের হাসপাতাল থেকে তার বাসায় নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার নামে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির ব্যবস্থা করে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত আহত ওই ছাত্র-ছাত্রী নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম মুনির জানান, এ ঘটনায় জড়িত বখাটে মনিরকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





প্রয়োজনে : ০১৭১১-১৩৪৩৫৫
Design By MrHostBD
বাংলা English
Copy link
Powered by Social Snap